যৌথ পরিবার যেন মায়ায় ঘেরা একটি ব্যস্ত রান্নাঘর; যেখানে সারাদিন হাসাহাসি, আড্ডা আর সাপোর্ট পাওয়া যায়। তবে এর সাথে থাকে কোলাহল আর মাঝেমধ্যে ছোটখাটো মান-অভিমান। দক্ষিণ এশিয়ার সংস্কৃতিতে যৌথ পরিবার বনাম একক পরিবার নিয়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। আজ আমরা আলোচনা করব এই দুই ধরনের পরিবারের সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে।
যৌথ পরিবারের ঐতিহ্য ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
প্রাচীন কৃষিভিত্তিক সমাজে যৌথ পরিবারের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। সেখানে অনেক প্রজন্ম একসঙ্গে এক ছাদের নিচে বাস করত। যদিও বর্তমান সময়ে এই প্রথা কমে আসছে, তবুও আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে এটি আজও গর্বের বিষয়। দাদা-দাদি, চাচা-ফুফু আর কাজিনদের সাথে বড় হওয়ার অভিজ্ঞতা একক পরিবারে পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
একক পরিবারে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা
একজন ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র সাদিকুল হকের মতে, একক পরিবারে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো স্বাধীনতা। তিনি বলেন, “যৌথ পরিবারে প্রতিটি কথা বলার আগে দশবার ভাবতে হয়, যাতে কেউ কষ্ট না পায়। কিন্তু একক পরিবারে সেই চাপ নেই।”
একক পরিবারের কিছু সুবিধা:
- নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার স্বাধীনতা।
- পরীক্ষার সময় বা কাজের সময় নিরিবিলি পরিবেশ।
- গোপনীয়তা বা প্রাইভেসি বজায় রাখা সহজ।
যৌথ পরিবারের মানসিক নিরাপত্তা ও একাত্মবোধ
অন্যদিকে, সাফকাত জহির মনে করেন একক পরিবারের শিশুরা অনেক সময় একাকীত্বে ভোগে। বাবা-মা দুজনেই কর্মজীবী হলে শিশুরা বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। যৌথ পরিবার এখানে রক্ষাকর্তা হিসেবে কাজ করে। সেখানে সবসময় কথা বলার মতো কাউকে পাওয়া যায় (যেমন: দাদু বা প্রিয় কাজিন)।
“বিপদে বা অসুস্থতায় যৌথ পরিবারের সদস্যরা যেভাবে একে অপরের পাশে দাঁড়ায়, তা সত্যিই অতুলনীয়।”
উৎসবের আমেজ ও স্মৃতিচারণ
বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া আমিনা রহমান ঐশ্বরিয়ার মতে, ঈদ বা বড় কোনো উৎসবে একক পরিবারে থাকাটা বেশ একঘেয়ে। উৎসবের আসল আনন্দ আসে সবার সাথে মিলেমিশে। ফারদিন তাহরিম তার ছোটবেলার কথা মনে করে বলেন, “যৌথ পরিবারে কাটানো শৈশব আমাকে সম্পর্কের মূল্য শিখিয়েছে।”
যৌথ পরিবার বনাম একক পরিবার—এই তর্কে জয়-পরাজয় নেই। একক পরিবার আপনাকে শান্তি এবং স্বাধীনতা দেবে, কিন্তু যৌথ পরিবার আপনাকে দেবে একাত্মবোধ এবং এমন এক সাপোর্ট সিস্টেম যা বিপদের দিনে বড় ঢাল হয়ে দাঁড়াবে।

