শীতের আলসেমি কাটিয়ে নিজেকে সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখতে চান? বিখ্যাত লেখক গ্রেচেন রুবিনের দর্শনের আলোকে জানুন শীতে নিজেকে চাঙা রাখার কার্যকর ৭টি উপায়।
সুস্থ থাকুন, সুন্দর থাকুন।
শীতের সকাল মানেই লেপের ওম আর এক কাপ গরম চা। কিন্তু এই আরামদায়ক আবহাওয়ার সাথে আসে এক ধরণের আলসেমি বা ‘উইন্টার ব্লুজ’। বাইরে কুয়াশা আর সূর্যের দেখা না মেলায় আমাদের শরীরের এনার্জি লেভেল অনেকটাই কমে যায়। বিখ্যাত লেখিকা গ্রেচেন রুবিন তার লেখায় বারবার বলেছেন, আমাদের ছোট ছোট অভ্যাসই পারে বড় ধরণের মানসিক পরিবর্তন আনতে।
আজকের ব্লগে আমরা আলোচনা করব কীভাবে শীতের এই স্থবিরতা কাটিয়ে নিজেকে প্রতিদিন উদ্যমী ও কর্মক্ষম রাখা যায়।
১. ভোরের আলো গায়ে মাখুন
শীতকালে দিনের আলো কম থাকে, যার ফলে আমাদের শরীরে ‘সেরোটোনিন’ বা আনন্দের হরমোন কমে যেতে পারে। গ্রেচেন রুবিনের মতে, প্রাকৃতিক আলো আমাদের সার্কাডিয়ান রিদম (Circadian Rhythm) ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
- সকালে ঘুম থেকে উঠে অন্তত ১৫-২০ মিনিট জানালার পাশে বসুন।
- সম্ভব হলে হালকা রোদে হাঁটাহাঁটি করুন। এটি আপনার ভিটামিন-ডি এর মাত্রা ঠিক রাখবে এবং তাৎক্ষণিক এনার্জি দেবে।
২. হাইড্রেটেড থাকুন (কুসুম গরম পানি)
আমরা সাধারণত গরমে প্রচুর পানি পান করলেও শীতে তৃষ্ণা কম পাওয়ার কারণে পানি পান কমিয়ে দিই। ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা শরীরের ক্লান্তি বাড়িয়ে দেয়।
- নিজেকে চাঙা রাখতে সারাদিন অল্প অল্প করে কুসুম গরম পানি পান করুন।
- ভেষজ চা বা আদা-লেবুর চা পান করতে পারেন, যা আপনার বিপাক প্রক্রিয়াকে সচল রাখবে।
৩. মৌসুমি খাবারের ওপর জোর দিন
শীতের বাজারে এখন রঙিন শাক-সবজি আর ফলের সমারোহ। নিজেকে ভেতর থেকে শক্তিশালী রাখতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার খান।
- পালং শাক, ব্রকলি, গাজর এবং বিট আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে।
- বিকেলের নাস্তায় আমন্ড, আখরোট বা খেজুর রাখুন। এগুলো শরীরে দীর্ঘক্ষণ শক্তি জোগায়।
৪. ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ (The One-Minute Rule)
গ্রেচেন রুবিনের একটি বিখ্যাত নিয়ম হলো ‘ওয়ান মিনিট রুল’। যদি কোনো কাজ করতে এক মিনিটের কম সময় লাগে, তবে তা এখনই করে ফেলুন। শীতের আলসেমিতে আমরা কাজ জমিয়ে রাখি, যা পরে মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। বিছানা গোছানো, কাপ ডিশ ধুয়ে রাখা—এই ছোট কাজগুলো শেষ করলে আপনার মনে হবে আপনি দিনের নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতে রেখেছেন।
৫. শরীরচর্চায় আনুন বৈচিত্র্য
কনকনে ঠান্ডায় জিমে যাওয়া বা বাইরে দৌড়ানো কঠিন হতে পারে। কিন্তু স্থির হয়ে বসে থাকলে শরীর আরও বেশি জবুথবু হয়ে যায়।
- ঘরের ভেতর যোগব্যায়াম বা ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ করুন।
- পছন্দের মিউজিক ছেড়ে ১০ মিনিট নাচতে পারেন। এটি শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং এন্ডোরফিন হরমোন নিঃসরণ করে আপনাকে হাসিখুশি রাখে।
৬. পোশাক নির্বাচনে উজ্জ্বল রং
শীতের ধূসর আবহাওয়ায় আমরা প্রায়ই গাঢ় বা কালো রঙের পোশাক পরি। গ্রেচেন রুবিন তার গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, রঙের সাথে আমাদের মনের গভীর সংযোগ রয়েছে। নিজেকে সতেজ দেখাতে উজ্জ্বল লাল, নীল বা হলুদ রঙের সোয়েটার বা স্কার্ফ ব্যবহার করুন। এটি আপনার নিজের পাশাপাশি চারপাশের মানুষের মনেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
৭. ভালো ঘুমের রুটিন
শীতে রাত বড় হয়, তাই শরীরের বিশ্রামের চাহিদাও বাড়ে। তবে অতিরিক্ত ঘুমানো আবার আলসেমি তৈরি করে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর চেষ্টা করুন এবং শোবার ঘরকে আরামদায়ক তাপমাত্রায় রাখুন।
শীত মানেই শুধু গুটিসুটি মেরে বসে থাকা নয়; বরং এটি নিজের যত্ন নেওয়ার এবং নতুন শক্তিতে জেগে ওঠার সময়। উপরের টিপসগুলো অনুসরণ করে আপনি শুধু শারীরিকভাবেই সুস্থ থাকবেন না, মানসিকভাবেও থাকবেন ফুরফুরে। মনে রাখবেন, ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমেই বড় সুখ খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

